১০ টি ঐতিহাসিক আবিষ্কার যা আজও রহস্যে ঘেরা

এই মহাবিশ্বের ইতিহাস সত্যিই বিস্ময়কর ও রহস্যপূর্ণ। কিছু কিছু আবিষ্কার এতটাই রহস্যময় যে শত শত বছর পরও এখনো আমাদের কাছে অজানা।

আজ ভালোমন এর পক্ষ থেকে এমন কিছু আদিম পৃথিবীর সত্যিকারের বিস্ময় চিত্র তুলে ধরছি।

মোয়া পাখি

আদিমযুগে ‘মোয়া’ নামক একপ্রকার পাখি ছিল যা নিউজিল্যান্ডে বসবাস করতো, পাখিগুলো উড়তে পারতো না এবং প্রায় ১৫০০ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যায়। কথিত আছে যে, ‘মাওরি’ নামক এক মানব জাতি এসব পাখিকে হত্যা করে বিলুপ্ত করেছিল। বিংশ শতাব্দীতে একটি অভিযানের সময় ‘মোয়া’ পাখির পা পাওয়া যায় যা শতাব্দী ধরে এখনো পর্যন্ত অবিশাস্য ভাবে সংরক্ষিত আছে।

সাকচেইওয়াম্যান মন্দির, পেরু

আধুনিক কোনো যন্ত্রপাতি ছাড়াই এই প্রাচীন মন্দির পাথর ধারা নিখুঁতভাবে তৈরী করা হয়েছিল, যা সত্যিই আশ্চর্যজনক। পাথরগুলো এমন ভাবে বসানো হয়েছে যে পাথরের মাঝখান দিয়ে ছোট্ট একটি কাগজের টুকরো ঢুকানো সম্ভব না। প্রতিটি ব্লকের পাথরগুলো খুবই মসৃন এবং গোলাকার কোনা মিশানো। এই মন্দিরটি কিভাবে তৈরী হয়েছিল? আজ পর্যন্ত কেউই জানেনা।

সূর্য দুয়ার, বলিভিয়া

বলিভিয়ার টিয়ানাকু নামক এক প্রাচীন ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরে অবস্থিত এই সূর্যের দুয়ার। কিছু প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা ছিল যে এই শহরটিতে পৃথিবীর মধ্যে সবথেকে পুরোনো এবং শক্তিশালী একটি সাম্রাজ্য বসবাস করতো। এখনো পর্যন্ত সূর্যের দরোজায় খচিত নকশাগুলোর অর্থ কি তা কেউ বের করতে পারে নি। তবে ধারণা করা হয় এগুলো জ্যোতির্বিদ্যা-সংক্রান্ত কোনো কিছুর সাথে জড়িত।

লংজু গুহা, চীন

এই প্রাচীন গুহাগুলো মানুষের হাত দিয়ে বেলেপাথর খুঁড়ে তৈরী করা। সত্যি বলতে কি এই কঠিন কাজ হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া অসম্বব। ইতিহাসের কোথাও এই গুহাগুলোর নির্মাতা কিংবা গুহাগুলো গঠন করতে ব্যবহৃত পদ্ধতি উল্লেখ নেই।

অসম্পূর্ণ ওবেলিস্ক, ইজিপ্ট

একটি বিশাল পাথর কেটে এই ওবেলিস্ক তৈরী করা হয়। কিন্তু, এতে হটাৎ ফাটল শুরুর কারণে এটি অসমাপ্ত ফেলে রাখা হয়েছিল। ওবেলিস্কটির আকার সত্যিই বিস্ময়কর। কেওই জানে না ঠিক কি কারণে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

ইয়োনাগুনি এর ডুবন্ত শহর, জাপান

‘কিহাচির আরাতাকে’ নামক এক ডুবরী প্রশিক্ষক সমুদ্রতলের এই প্রাচীন শহর আবিষ্কার করেন। এই আবিষ্কারটি অনেক বিভ্রান্তিকর বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের জন্ম দেয়। ধারণা করা হয়, যে পাথর দিয়ে এ শহর নির্মাণ করা হয় তা প্রায় ১০,০০০ বছর পুরনো – এমনকি মিশরীয় পিরামিডের চেয়েও পুরোনো। অনেক ভূতত্ত্ববিদ বিশ্বাস করেন এ সময়কার মাঁনুষ গুহায় বসবাস করতো এবং গাছের শিকড় খেয়ে বেঁচে থাকতো। তারা শিকার করা ও পাথর খাড়া করে বসত নির্মাণ কি তা জানতোই না।

মোহেনজো-দারো (মৃত্যুর সমাধি), পাকিস্তান

এই শহরটির পতনের মূল কারণ বের করতে বিশেষজ্ঞদের কয়েক দশক ধরে হয়রানি হতে হয়েছে। ১৯২২ সালে, ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ববিদ আর. ডি. ব্যানারজী সিন্ধু নদীর এক দ্বীপে এই প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পান। প্রশ্ন ছিল: কিভাবে এই শহর ধ্বংস হয়েছিল? শহরে বাসিন্দাদের কি ঘটেছিলো? কিন্তু কেউ এর উত্তর দিতে পারেনি।

ল’আনস অক্স মিডোজ, কানাডা

হাজার বছর আগের এই প্রাচীন জায়গা ভাইকিংসদের ধারা নির্মিত। এই নির্মাণ ইঙ্গিত করে যে, ক্রিস্টোফার কলম্বাসের জন্মের আগে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এলাকার (উত্তর ইউরোপ এর কিছু দেশ) নাবিকরা উত্তর আমেরিকায় পৌঁছায়।

পাথর যুগের সুড়ঙ্গ

স্কটল্যান্ড থেকে তুরস্ক পর্যন্ত সমস্ত ইউরোপ জুড়ে প্রসারিত ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের এক বিশাল নেটওয়ার্ক, যা দেখায় যে পাথর-যুগ সম্প্রদায় কেবলমাত্র শিকারে পারদর্শী ছিল না। কিন্তু গুহাগুলোর প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনও অজানা। কোনো কোনো গবেষক বিশ্বাস করেন যে পাথর যুগের মানুষরা ভয়ানক প্রাণী থেকে বাঁচার জন্য এ ধরণের সুড়ঙ্গ তৈরী করেছিল। অন্যরা বিশ্বাস করেন যে, পাথর যুগের মানুষরা আশেপাশে নিরাপদ ভ্রমণের জন্য কিংবা আবহাওয়া ও বিভিন্ন দ্বন্দ্ব থেকে নিরাপদে থাকার জন্য এসব সুড়ঙ্গ ব্যবহার করতো।

কোস্টারিকার বিশাল গোল পাথর

এই পাথর শুধু তাদের বিশাল গোল আকৃতির জন্যই বিখ্যাত নয়, পাথরগুলো তাদের অজানা উৎসের জন্যেও বিখ্যাত। ১৯৩০ সালে স্থানীয় কৃষকরা কলা বাগান পরিষ্কার করতে গিয়ে এসব পাথর আবিষ্কার করে। ঐসময় স্থানীয় দার্শনিকরা ধারণা করেছিলেন, এসব রহস্যময় পাথরের ভিতরে লুকায়িত স্বর্ণ আছে – কিন্তু আসলে কিছুই পাওয়া যায় নি।

আপনার মতামত...

2018-06-07T10:10:10+00:00
ভালোমন