বিশ্বের ১০ টি আশ্চর্যজনক ও রহস্যময় স্থান যেখানে মানবজাতির ছোঁয়া লাগেনি

পৃথিবীতে অনেক আশ্চর্যজনক ও রহস্যময় স্থান আছে যেখানে এখনো মানব জাতির পদচরণ হয়নি অথবা প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগেনি, সম্ভবত, এখনও সম্পূর্ণভাবে বন্য প্রাণীর দখলে আছে। কিছু কিছু স্থান এতোটাই দুর্গম ও দূরবর্তী যে সেখানে পৌঁছানোর জন্য বিপুল পরিমাণ সময়, প্রচেষ্টা এবং দক্ষতা প্রয়োজন। আর কিছু কিছু আছে যা শুধুমাত্র উপর থেকে দেখা সম্ভব – অসম্ভব রহস্যময় সুন্দর্যে পরিপূর্ণ। সম্ভবত, এসব স্থানগুলো পৃথিবীর আদিম কাল থেকে কালের পরিক্রমায় অদ্ভুত বন্য সুন্দর্য ও রহস্যময় প্রকৃতির সাথে টিকে আছে।

আজকে আপনাদের সামনে এমন ১০ টি আশ্চর্যজনক স্থান উপস্থাপন করছি। প্রকৃতি যে কতটাই অদ্ভুত ও রহস্যময়, দেখুন –

ফরেস্ট লেক, রাশিয়া

এই লেকটির সত্যিকার অবস্থান এখনো অজানা। কারো কারো ধারণ, এটি রাশিয়ার টিউমেন এলাকায় অবস্থিত। ঠিক কিভাবে গহীন বনের ভিতর এর আবির্বাব, কেওই জানে না….

টেপুই, ভেনেজুয়েলা

ভেনেজুলেয়ার গ্রান সাবানা আদিবাসীদের ভাষায় ‘টেপুই’ শব্দটির অর্থ ‘দেবতার বাড়ি’ যেখানে এই অবিশাস্য ও রহস্যময় বিশাল প্রাকৃতিক কাঠামো গুলো অবস্থিত।

হনকহাউ ঝরনা, মাওই

এই দুর্গম জায়গাটি সবুজ প্রকৃতিতে মোড়ানো। অপরূপ সুক্ষ সুন্দর্য, অপার মহিমা, ও রহস্যময় শ্যামল প্রকৃতির এক প্রাণবন্ত উদাহরণ এই স্থানটি।

আমাজন রেইনফরেস্ট

এই অবিশাস্য, বিশাল আঁকাবাঁকা প্রাকৃতিক স্থানটি  দক্ষিণ আমেরিকার নয়টি দেশ – ব্রাজিল, পেরু, কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, গায়ানা, সুরিনাম এবং ফরাসি গায়ানা – জুড়ে অবস্থিত। এটা এতটাই বড় যে মানবজাতি এর ভিতরের সম্পূন্ন রহস্য খুঁজে বের করার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছে।

গাঙ্খার পূর্নসুম, ভুটান

এটি পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ি এলাকা যা এখনো মানবজাতির দখলে আসেনি। এটি ভুটান ও চায়নার সীমান্ত মাধবর্তী এলাকায় অবস্থিত এবং ৭৫৭০ মিটার উঁচু।

টেসিংয়ে ডি বেমারাহ, ম্যাডাগ্যাস্কার এর শিলা বন

এই পাথুরে আকৃতির স্তম্ব ও গিরিপথ গুলো লক্ষ লক্ষ বছর ধরে গঠিত। সম্ভবত মাটির নিচের গুহায় মৌসুমী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে চুনাপাথর এবং খড়ি জমাট হয়ে ছোট ছোট আকৃতির এই আঁকাবাঁকা, তীক্ষ্ণ, ও রহস্যময় স্তম্বগুলোর জন্ম যা গভীরতায় কখনো কখনো ১২০ মিটার ছাড়িয়ে গেছে।

কেরগুইলেন দ্বীপ

সুবিশাল ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ অংশে লুকায়িত এই দ্বীপটি নিজের দেশ ফ্রান্স থেকে অনেকটা দূরে অবস্থিত। প্লেনে ভ্রমণ করে যাওয়া যায় না, পৌঁছনোর একমার্ত উপায় হলো নৌকা দিয়ে রেউনিওঁ দ্বীপ হয়ে যাওয়া যা  মাদাগাস্কার এর অনেকটা কাছাকাছি। পাশাপাশি এই স্থানটি অ্যাটলান্টিস এর অংশ হতে পারে যা সুন্দর্যের জন্য অনেক আগে থেকেই বিখ্যাত।

রক দ্বীপ, পালাউ

যদিও আমরা এখন আধুনিক সভ্যতায় বাস করছি, এই দ্বীপটি এতোই দূরবর্তী এলাকায় অবস্থিত যে এর সম্পর্কে বলা যাই কিছুই জানি না। তবে গবেষণা করে জানা গেছে যে এই স্থানে একসময় ছোট আকৃতির মানুষের বসবাস ছিল যারা উচ্চতায় ছিল অনেক ছোট। এই দ্বীপটি আমাদেরকে গ্যালিভার ও লিলিপুট এর গল্পটির কথা মনে করিয়ে দেয়।

দাল্লোল, ইথিওপিয়া

এই মুহূর্তে ইথিওপিয়ার এই স্থানটি লবণের খনি হিসেবে ব্যাবহৃত হচ্ছে, সুতরাং ঠিক বলা যায় না যে প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগেনি। কিন্তু এর ঠিক পাশের আগ্নেয়গিরি এলাকাটি এখনো বসবাসের অযোগ্য। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন ভিনগ্রহী আকৃতির এই আগ্নেয়গিরি অনেকটা বৃহষ্পতি গ্রহের চাঁদ ‘আইও’ এর ভয়ঙ্কর আগ্নেয়গিরির প্রতিচ্ছবি।

পল্ময়রা প্রবাল

হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণে প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে অবস্থিত এই রহস্যময় ও আদিম প্রবালপ্রাচীরটি এক অবিশাস্য ঐন্দ্রজালিক শক্তিতে পরিপূর্ণ। সত্যিই অতুলনীয় সুন্দর্যে ভরপুর এর স্থানটি।

আপনার মতামত...

2018-06-09T13:42:40+00:00
ভালোমন