বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের আজব রহস্য সন্ধান!

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের পিছনে অনেক রহস্য আছে, এটি এমন একটি জায়গা যেখানে শত শত বিমান ও জাহাজ অজ্ঞাত অবস্থায় অদৃশ্য হয়ে গেছে বলে মনে করা হয়। গবেষকেরা শেষ পর্যন্ত এর সমাধানে সাফল্য লাভ করেছে — অন্তত ‘সাইন্স চ্যানেল‘ নামের একটি গবেষণা সংস্থা এটি দাবি করে আসছে।

আমেরিকার কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের একটি দল এই আজব রহস্যময় এলাকার আবহাওয়া চিত্র স্যাটেলাইট এর মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে এর উপর অস্বাভাবিক হেক্সাগোনাল ক্লাউড অথবা বাংলায় ‘ষড়্ভুজাকার মেঘের’ স্তর লক্ষ্য করেন। আবহাওয়াবিদরা ধারণা করেন যে এই মেঘগুলি হয়তোবা একপ্রকার “বাতাস বোমা” হিসেবে কাজ করছে।

ধারণা করা হয় যে, এটি বাতাসের মারাত্মক বিস্ফোরণের প্রধান কারণ, যা গতিবেগ ঘন্টায় ১৭০ মাইলের বেশি করে দিতে পারে। এই হারিকেন ঝড়ের মতো বাতাস আক্ষরিকভাবে সাগরের বুকে ৪৫ ফুটের চেয়ে বেশি উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি করতে পারে।

কোন জাহাজ এই ধরনের ঝড়ে বেঁচে থাকতে সক্ষম নয়, এবং কোন বিমানও এধরনের বাতাসের গতিবেগ সহ্য করতে সক্ষম নয়।

মেঘ সাধারণত আকাশে এরকম আকার গঠন করে না। যাইহোক, স্যাটেলাইটের চিত্রগুলো দেখে বলা যায় বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এই নিয়মের ব্যতিক্রম। এই নতুন তথ্যটি আরও অনেক বিজ্ঞানীকে গবেষণা করেতে আগ্রহী করে তুলছে। বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীরা মেঘের এরকম ব্যতিক্রমধর্মের জন্য কী কী কারন থাকতে পারে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।

মূলত, বারমুডা ট্রায়াঙ্গল আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যে ফ্লোরিডা, পুয়ের্তো রিকো, এবং বারমুডা এলাকা গুলো নিয়ে একটি বিশাল অঞ্চল। এই অঞ্চলটি জাহাজ ও বিমান গায়েবের রহস্যজনক ঘটনার জন্য কুখ্যাত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৪৫ সালের দিকে এই অঞ্চলে পাঁচটি আমেরিকান টর্পেডো বোম্বার এবং তাদের খুঁজে বের করার জন্য পাঠানো একটি প্লেন কোন সূত্র ছাড়াই গায়েব হয়ে যায়। সেই দিন থেকে এখন পর্যন্ত, ৭৫ টিরও বেশি বিমান ও কয়েকশো জাহাজ বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে কোন সূত্র ছাড়াই হারিয়ে গেছে। সর্বশেষ ঘটনা ২০১৫ সালে, যখন জাহাজ “এল ফারো” এই অঞ্চলে অদৃশ্য হয়ে যায়।

আপনার মতামত...

2018-06-04T06:39:30+00:00
ভালোমন